মিমিক্রি

 ১

সেদিন পকেটে যা ছিল সব খরচ করে মৃত্যুর মত পোশাক কিনলাম। সঙ্গে একটা মৃত্যুর মুখোশ। খুব কাছে এসে হাত পা টিপে না দেখলে বোঝার উপায় নেই – আমি মৃত্যু নই।আমিই মৃত্যু। যেদিকে যাই লোকেরা পালায়...! শুধু রাতে যখন বাড়ি ফিরে রান্না বসাই – পোশাক ও মুখোশ খুলে রাখি। এই রাত টুকু যেন একটু বাঁচি, রাত টুকু বাঁচার জন্যেই সারাদিন মরণ সেজে থাকি। একদিন সত্যি সত্যি মৃত্যুর সাথে দেখা। হাই, হ্যালো, বলে বলে চলে গেল। তাহলে কি মৃত্যু নিজেও আমারই মত কেউ?



এসব ভাবতে ভাবতে আপিসে ঢুকলাম। আমার নিজের কোম্পানি। কর্মচারী শুধু এক সহকারী। একটা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের প্রোগ্রামিং করছি আজকাল, আগামী মার্চে লঞ্চ করব, মৃত্যুর মুখোশ ও পোশাকের ই-কমার্স সাইট। আশাবাদী, চলবে ভাল। আমার যে অ্যাসিস্ট্যান্ট, সে সঙ্গীহীন মা। আজ ওর তিন বছরের মেয়েটাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। ফুটফুটে মেয়েটা। পকেট থেকে একটা ডেয়ারি মিল্ক বের করে দিলাম। সে নিল। এরা দুজনে আমাকে মৃত্যু বলে চেনে, মেয়েটা মরণ কাকা ডাকে। বলল, মরণ কাকা, আমাকে মারতে পারো। আমি জবাব নিলাম না। সে পড়ল আর মরল। তার মা আধ খাওয়া ডেয়ারি মিল্কটা তুলে নিয়ে খেতে লাগল পরম সুখে।

নবীনতর পূর্বতন